শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১০

Nobider Jiboni (3)

হযরত লূত (আঃ)ঃ
লূত শব্দের অথê জড়িয়ে যাওয়া, এঁকে যাওয়া। লুত (আঃ) ইব্রাহীম (আঃ) এর একান্ত প্রিয়ভাজন ও অন্তরঙ্গ ছিলেন বলেই তাঁর নাম লূত হয়। প্রায় চার হাজার বছর পূবেê লুত (আঃ) বাবেল শহরে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ইব্রাহীম (আঃ) এর ভাতিজা ছিলেন। তিনি সামূদ গোত্রের নিকট প্রেরিত হন। তাঁর গোত্রের লোকেরা সমকামিতা , বনিকদের সম্পদ লুন্ঠনসহ যাবতীয় অপকমেê লিপ্ত থাকত । কুরআনে তাদের সম্পকেê বলা হয়েছে “তোমরা কি ঐ সমস্ত লোক নও যে তোমরা পুরুষদের সাথে অপকমê করছ, ডাকাতি করছ, নিজেদের মজলিশ সমূহে এবং পরিবার পরিজনের সম্নূখে অশ্লীল কাজ করছ”।(সূরা আনকাবূত-২৯) এই সমকামিতার অপরাধে এবং ফিরিশতাদের সাথে খারাপ আচরনের জন্য আল্লাহ সামূদ জাতির বস্তিসহ গোটা জমিনকে উল্টিয়ে দেন। জমিন উল্টানোর ফলে নিচের পানি উপরে এসে সাগর সৃষ্টি হয়েছে। এই সাগর ৮২ কিলোমিটার লম্বা ,১৮ কিলোমিটার প্রস্থ এবং ১০০০ফুট গভীর । অতিরিত্ত্ন লবনের কারনে পানির ঘনত্ব অত্যাধিক বেশি যার ফলে কোন মানুষ পানিতে ডোবেনা।

হযরত ইসমাঈল (আঃ)ঃ
ইব্রাহীম (আঃ) ্‌এর দ্বিতীয় স্ত্রী হাজেরার গভেê ইসমাঈল (আঃ) আজ থেকে প্রায় তিন হাজার নয়শত দশ বছর আগে আজকের ফিলিস্তিনের হেবরুনে জন্ম গ্রহন করেন। ইব্রাহীম (আঃ)আল্লাহর নিদেêশে শিশু পুত্রসহ বিবি হাজেরকে মক্কা উপতাক্যয় নিবêাসন দান করেন । ইসমাঈল (আঃ) সম্পকেê আল্লাহ বলেন “আর ইসমাঈল, ইয়াসা, ইউনুস,ও লুত-প্রত্যেককেই আমি সারা বিশ্বের উপর গৌরবান্বিত করেছি”। (সূরা আনআম -৮৬)নিবêাসনে মশকের সঞ্চিত পানি শেষ হওয়ার পর হযরত হাজেরা ছাপাও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে পানির সন্ধানে সাতবার সায়ী করেন যা বতêমানে হজ্বের একটি গুরুত্বপূনê অংশ। হঠাৎ হাজেরা (আঃ) দেখলেন জিব্রাইল (আঃ) মাটিতে আঘাত করছেন। অতঃপর পানি বের হওয়া শুরু হলো। হাজেরা (আঃ) পানি সংগ্রহ করে পাথর দিয়ে বাঁধ দিলেন । যা জম জম কূপ কূপ হিসেবে পরিচিত। জমজম শব্দের অথê শত্ত্ন করে বাঁধ দেয়া। ইসমাঈল (আঃ) ১৩৭ বছর জীবিত ছিলেন।

হযরত ইসহাক (আঃ)ঃ
ইব্রাহিম (আঃ)এর বয়স যখন একশো বছর এবং বিবি সারাহ এর বয়স ৯০ বছর তখন আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে একজন সন্তানের শুভ সংবাদ দেন । সে সন্তানের নামই ইসহাক (আঃ)। ইসহাক (আঃ) এর দুছেলে তারা হলেন ইয়াকুব এবং ইশু । তিনি ১৮০ বছর জীবিত ছিলেন এবং কেনানে মৃত্যুবরণ করেন।

হযরত ইয়াকুব (আঃ)
হযরত ইয়াকুব (আঃ) কেনান অথêাৎ আজকের ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে জন্মগ্রহন করেন । ইয়াকুব (আঃ) এর উপাধি হলো ঈসরাইল। ইব্রানী ভাষায় ইসরা অথê গোলাম এবং ‘আইল’ অথê আল্লাহ । অথêাৎ ঈসরাইল অথê ‘আল্লাহর বান্দা’ । তাঁর পিতা হযরত ইসহাক (আঃ) এবং মাতা রহীল বিনতে লাবান । ইয়াকুব (আঃ) ১২ সন্তানের জনক ছিলেন । রাতবীন, শামাউন, লাওয়া, ইয়াহুদ দাইসাফার, যালুবন,ইউসুফ, বেনইয়ামীন, দান,নাফতালা ,যাদ, ও আষার । বেনইয়ামীন ব্যতীত তার সকল সন্তান ফাদ্দাম আরামে জন্মগ্রহন করেন । বেনইয়ামীনকে ইহুদী নাসারা বেন্‌জামিন এবং ইঊসুফ (আঃ) কে জোসেফ বিকৃত নামে ডাকে । আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর সম্বন্ধে বলেন, “···এবং আমি ইব্রাহিমকে দান করেছিলাম ইসহাক এবং পৌত্ররুপে ইয়াকুব ,আর প্রত্যেককেই করেছিলাম সৎ কমêপরায়ণ।” (আম্বিয়া-৭২) ইয়াকুব (আঃ) ১৪৭ বৎসর বয়সে ইন্তেকাল করেন এবং ফিলিস্তিনের হেবরুনে তাঁকে দাফন করা হয় ।

হযরত ইউসুফ (আঃ)
ইউসুফ (আঃ) ছিলেন ইয়াকুব (আঃ) এর ১১তম সন্তান । একদা তিনি স্বপ্নে দেখেন ১১টি গ্রহ তাকে সিজদা করছে উত্ত্ন ঘটনা ইয়াকুব (আঃ) কে বলেন। ঘটনাত্র্নমে তার ভাইয়েরা ঘটনাটি জেনে গেলেন । তাঁর ভাইয়েরা তাঁকে এক অন্ধকার কূপে নিক্ষেপ করেছিল। মিশরগামী বানিজ্য কাফেলা কূপের ভিতর বালতি নিক্ষেপ করলেই ইউসুফ (আঃ) সেটা ধরে ফেলেন এবং বালতিসহ তিনি উপরে উঠে আসেন। তৎক্ষনাৎ তারা এ ফুটপুটে কিশোরকে মিশরের বাজারে নিয়ে গেলে মিশরের বাদশা আজিজ তাকে দাসরূপে ত্র্নয় করে নেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন “একটি যাত্রীদল এলো , তারা তাদের পানি সংগ্রাহককে পানি সংগ্রহের জন্য পাঠালো। সে তাঁর ডোর নামিয়ে দিল। সে বলে উঠলো কি সুখবর! এ যে এক কিশোর অতঃপর তারা তাকে পণ্যরূপে লুকিয়ে রাখলো। তারা যা করতে ছিল আল্লাহ সেসব বিষয়ে অবহিত ছিলেন। (সূরা ইউসুফ-আয়াত ১৯) এ সময় তার বয়স ছিল ১৩ বছর। আজিজের গৃহে তিনি ৬ বছর অবস্থান করার পর তার স্ত্রী জুলেখা কতৃক অপবাদ রটনার পেক্ষিতে তিনি কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন। ইউসুফ আঃ আকষণêীয় সৌন্দêযের অধিকরী ছিলেন। যার প্রমান পাওয়া পবিত্র কোরআনে- “আর ( যখন সেই ব্যাপারের চচêা খুব প্রসারিত হইয়া পড়ল) শহরের কতিপয় স্ত্রীলোক বলিতে লাগিল , দেখ , আযীযের বিবি নিজের গোলামকে প্রেমের ফাঁদে ফেলিতেছে যেন তাহাকে আকৃষ্ট করিয়া লইতে পারে । সে গোলামের প্রেমে আত্মহারা হইয়া পড়িয়াছে। আমাদের ধারনায় সে তো প্রকাশ্যে মন্দ স্বভাবের নিপতিত হইয়াছে। অনন্তর আযীযে মিসরের স্ত্রী যখন তাহাদের ষড়যন্ত্রের কথা শুনিতে পাইল , তখন তাহাদিগকে ডাকাইয়া পাঠাইয়াল এবং তাহাদের জন্য বিস্তৃত আসন সমূহ সজ্জিত করিল এবং প্রত্যেককে একটি করে ছুরি প্রদান করিল। অতঃপর ইউসুফকে বলিল ,ইহাদের সকলের সম্মুখে বাহির হইয়া আস। ইউসুফ আঃ কে যখন সেই মহিলারা দেখিতে পাইল,তখন সকলে তাহার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করিল। তাহারা সকলে নিজেতের হাত কাটিয়া ফেলিল । হঠাৎ চীৎকার করিয়া উঠিল , ইনি তো মানুষ নহেন, নিশ্চয়ই কোন বুযূগê ফেরেশতা। (সূরা ইউসুফ) ”পরে বাদশার দেখা সপ্নের ব্যাখ্যা দেওয়ার কারণে তিনি করামুত্ত্ন হয়ে রাজ্যের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত হন। অতঃপর খৃঃ পূবê ১৭০৬ অব্দে পিতা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ রামাসিস নামক স্থানে বসবাস শুরু করেন। হযরত ইউসুফ (আঃ) ১১০ বৎসর বয়সে মিশরে মৃত্যুবরণ করেন।

হযরত আইয়ুব (আঃ)
আল্লাহর প্রিয় নবী হযরত আইয়ুব (আঃ) এর নাম আল কুরআনে চারটি স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা আন নিসার ১৬৩, আন আমের ৮৪, আল আম্বিয়ার ৮৩-৮৪, সুরা সোয়াদের ৪১-৪২, নং আয়াতে । ঐতিহাসিক ইবনে ইসহাকের মতে , হযরত ইব্রহিম পুত্র ইসহাক , ইসহাকের পুত্র ঈশু , ঈশুর পুত্র আমূশ , আমুশের পূত্র অইয়ুব। তিনি খৃষ্টপূবê নবম বা দশম শতকের লোক ছিলেন।হযরত আইয়ুব (আঃ) খৃঃ পূবê ১৫০০-১৩০০ সনের মধ্যে দক্ষিণ আরবের আওজ আইল নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। পবিত্র কুরআনে তার নবুয়াত সম্পকেê উল্লেখ আছে- “আর তার আওলাদের মধ্য থেকে দাউদ, সুলাইমান, আইয়ুব, ইউসুফ মূসা এবং হারুন” (আনয়াম-৮৪) আইয়ুব (আঃ) আদওয়ান বংশীয় আরব ছিলেন। তাঁর জামানা ছিল ইয়াকুব এবং মুসা (আঃ) এর মধ্যবতêীকালে। তিনি দীঘê ১৮ বছর অসুস্থ থাকার পর ১৪০ বছর বয়সে রোগ থেকে মুত্ত্নি লাভ করেন। আইয়ুব (আঃ) ২১০ বছর জীবিত ছিলেন।হযরত আইয়ুব ছিলেন বিরাট ধনী ব্যত্ত্নি। তার ধন সম্পদ ছিল অগনিত সীমাহীন। তার ছিল অনেক সন্তান সন্তুাদি। ছিল সুস্বাস্থ্য। এর জন্য তাঁর অহংকার ছিল না। তিনি এগুলোকে আল্লাহর দান অনুগ্রহ মনে করতেন। কঠিন পরীক্ষাঃ হযরত আইয়ুব (আঃ) চারটি বড় বড় পরীক্ষার সম্মূখীন হয়েছিলেনঃ১· তাঁর সমস্ত ধন সম্পদ বিনষ্ট হয়ে যায়।২· তাঁর সমস্ত শরীরে এক কঠিন যন্ত্রনাময় রোগ দেখা যায়।৩· তাঁর স্ত্রী (রহিমা )ছাড়া সকল আপন জন তাকে ছেড়ে চলে যায়।৪· এ অবস্থায় আল্লাহর প্রতি বিমুখ হওয়ার জন্য শয়তান তাকে বারবার প্ররোচনা দিতে থাকে।অতএব পরীক্ষার পড়েও হযরত আইয়ুব (আঃ) সবর অবলম্বন করেন । ধৈযê ধারন করেন । প্রতি মূহুতেê আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সকল দঃখ কষ্টে জন্য কেবল আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করতেন।

হযরত শুয়াইব (আঃ)
কোরআন মাজিদে শুয়াইব (আঃ) কে মাদইয়ান ও আইকা বাসীদের নবী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মাদাইনবাসীদের বসবাস ছিল উত্তর হিজাজ থেকে ফিলিস্তিনের দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে এবং সেখান থেকে সিনাই উপত্যকার শেষ প্রান্ত পযêন্ত আকাবা উপসাগর এবং লোহিত সাগরের তীর পযêন্ত। মাদইয়ান ছিল তাদের প্রধান শহর। তিনি মূসা (আঃ) এর পূবেêর নবী ছিলেন। শুয়াইব (আঃ) খৃঃ পূবê ৫০০-৬০০ সালের মধ্যে মাদায়েনে জন্মগ্রহন করেন। তিনি ইব্রাহিম (আঃ) এর ছেলে মাদায়েনের বংশধর। রাসূল (সঃ) তাঁকে ‘খতিবুল আম্বিয়া’ বা নবীদের মাঝে ‘শ্রেষ্ঠ বত্ত্না’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মাদায়েনের জনগণের সুবিধার জন্য তিনি একটি কূপ খনন করেন। এই কূপের পানি থেকে জনগন উপকৃত হত। তিনি মাদায়েন ও আইকা সম্প্রদায়ের নবী হিসেবে প্রেরিত হন। মূসা (আঃ) এর শ্বশুর ছিলেন শুয়াইব (আঃ)। মাদায়েনবাসী সম্পকেê আল্লাহ বলেন- “আমি মাদায়েনবাসীদের প্রতি তাদের ভ্রাতা শুয়াইব (আঃ) কে পাঠিয়েছিলাম। সে বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায় তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর,···।” (আনকাবুত-৩৬)মাদইয়ান ও আকাইবাসীদের দুরাচারঃ১· তারা আল্লাহর দ্বীনকে বিকৃত করেছিল।২· আল্লাহর সাথে শিরক করত এবং মুতিê পূজা করত। ৩· তারা জীবন যাপনের সঠিক পথ থেকে দূরে সরে পড়েছিল।৪· তারা মাপে কম দিত, ঠকাতো এবং প্রতারণা করত।৫· ডাকাতি এবং হাইজাক ছিল তাদের নিত্যদিনের কাজ।হযরত শুয়াইব (আঃ) অনেক চেষ্টা করেও এই দুটি জাতিকে যখন আল্লাহর পথে আসল না এবং নবী ও তার সাথীদের উৎখাত করার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিল আল্লাহ তখন উভয় জাতিকে প্রচন্ড বজ্রধ্বনি দিয়ে ধ্বংশ করে দিলেন।

হযরত মূসা (আঃ)ঃ
মূসা (আঃ) ৩২০০ বছর পূবেê মিশরের সিনাই উপত্যকায় জন্মগ্রহন করেন। মূসা শব্দের অথê মূশা যার অথê নাজাত দানকারী। তিনি বনী ইসরাঈলকে ৪০০ বছরের গোলামী থেকে নাজাত দান করেছিলেন। জন্মের পর তিনি আল্লাহর কুদরতে ফেরাউন দ্বিতীয় রামিসাসের ঘরে লালিত-পালিত হন। তিনি নবুয়্যত লাভের পর আল্লাহর নিদেêশে ফেরাউন এর নিকট আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত নিয়ে যান। তিনি হযরত ইব্রাহীমের নাতী ইয়াকুবের বংশধর। যারা বনী ইসরাঈল নামে পরিচিত ছিল। তৎকালে মিশরে ফারাওরা রাজত্ব করত। মুসার জন্মের সময় যে ফেরাউন রাজা ছিল তার নাম ছিল দ্বিতীয় রামিসাস। জন্মের পর রাজার ভয়ে তার মাতা তাকে সিন্দুকে ভরে নদীতে ভাসিয়ে দিলেন। রাজপ্রাসাদ নদীর তীরবতêী হওয়ায় সিন্দুকটি রাজপ্রাসাদের ঘাটে গিয়ে ভিড়ল। ফেরাউন সিন্দুকের শিশুটিকে দেখে বনী ইসরাঈলের সন্তান ভেবে মেরে ফেলার নিদেêশ দিলেন। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়া তাকে মৃতুøর হাত থেকে রক্ষা করলেন। এভাবে ফেরাউনের ঘরেই তিনি লালিত পালিত হতে থাকেন। বড় হয়ে তিনি পিতা-মাতার কাছ থেকে জানতে পারলেন যে, তিনি ইব্রাহিম ও ইয়াকুবের বংশধর। ফলে তিনিও মানসিকভাবে সত্যানুসন্ধানী হয়ে ওঠেন। ফেরাউন দাওয়াত গ্রহনে অস্বীকৃতি জানায় এবং মু’জিযা দাবী করলে তিনি তাঁর হাতের লাঠিখানা মাঠিতে নিক্ষেপ করেন এবং সাথে সাথে তা বিশাল অজগরে পরিণত হয়। মু’জিযা প্রত্যক্ষ করা সত্বেও দাওয়াত গ্রহনে অস্বীকৃতি জানিয়ে মুসা এবং তার অনুসারীদের উপর জুলুম নিযêাতন করে। খৃঃপূবê ১২৩৫ সালে মূসা (আঃ) তাঁর সঙ্গী সাথীদেরকে নিয়ে ফিলিস্তিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ফেরাউন তার সৈন্য সামন্ত নিয়ে মূসা (আঃ) এর পশ্চাদ্ধাবন করে লোহিত সাগরের দিকে রওনা হন। মূসা (আঃ) তাঁর হাতের লাঠি সাগরে নিক্ষেপ করলে বারোটি রাস্তা তৈরি করা হয়। মূসা (আঃ) তার সাথীদের নিয়ে সাগর অতিত্র্নম করেন। কিন্তু ফেরাউন সাগরের মাঝামাঝি আসা মাত্র সঙ্গী সাথীদের সলীল সমাধী ঘটে। মিশরের যাদুঘরে ফেরাউেনের লাশ আজও রক্ষিত আছে। মূসা (আঃ) তুর পাহাড়ে আল্লাহ তায়ালার সাথে কথা বলেন এবং নবুয়্যত প্রাপ্ত হন। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন- “তাকে আমি আহ্বান করেছিলাম তুর পাহাড়ের দক্ষিণ দিক থেকে এবং আমি অন্তরঙ্গ আলাপে তাকে নিকটবতêী করেছিলাম। আমি নিজ অনুগ্রহে তাকে দিলাম তার ভ্রাতা হারুনকে নবী রুপে। (মরিয়ম-৫২-৫৩)। সমুদ্র সমতল থেকে তুর পাহাড়ের উচ্চতা ৮২৬ মিটার। তুর পাহড়ে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তাওরাত নামক আসমানী কিতাব প্রাপ্ত হন। সমুদ্র অতিত্র্নম করে মূসা (আঃ) বনী ইসরাঈলদের নিয়ে বায়তুল মাকদাস রওয়ানা হন। মরুভুমিতে পানির অভাব হলে হাতের লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত করলে আল্লাহর নিদেêশে পানির ১২ টি ঝণêা প্রবাহিত মকরে শুরু করে, যা আজও প্রবহমান।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন